সরকারের উচ্চপদস্থ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করার অভিযোগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আতিয়ার দর্জি (৪৪) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) র্যাব-১০-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে (প্রেস ব্রিফিং) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব জানায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানে প্রতারক চক্রের মূলহোতা আতিয়ার দর্জিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার আতিয়ার দর্জি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনদের নাম-পরিচয় এবং ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে আসছিল। এসব ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে জাহির করত। পরবর্তীতে সে বিভিন্ন তদবির, অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাত বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ ডিজিটাল প্রতারক চক্র রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তাদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্তে দেখা যায়, ব্যবহৃত নম্বর ও অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ঘটনায় রাজধানীর ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই র্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার আতিয়ার দর্জির কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস, ৭টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের ৫টি এটিএম কার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ৯০০ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে র্যাব জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে কেউ সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে যোগাযোগ করলে নিশ্চিত না হয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান করবেন না। এ ধরনের যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।