কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড় ঘাট এলাকায় ভারতীয় গরু চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে দুটি ভারতীয় গরু ও সচল ভারতীয় সিমসহ তিন চিহ্নিত চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ ১৯ জুলাই ২০২৬, রবিবার দুপুর ২টা ৫ মিনিটে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ ১৮ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শালঝোড় ঘাট এলাকায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এক আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে আটটি গরুসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শালঝোড় ও ধলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম (৩৭), আল আমিন (৩০), নুর নবী (২৫) ও সবুজ (২১)।
থানায় নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, আটক আটটি গরুর মধ্যে দুটি গরু কালজানি ঘাট এলাকার কাজিয়ার চর সীমান্ত দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। বাকি ছয়টি গরুর বৈধ কাগজপত্র ও মালিকানা নিশ্চিত হওয়ায় সেগুলোকে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গরু ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতে এমন সীমান্ত অপরাধে না জড়াতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন এবং সচল ভারতীয় সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত ওই সব মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ভারতের অভ্যন্তরের গরু ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও চোরাচালানের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ পায় পুলিশ। এই অপরাধের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে মামলা দেওয়া হয়। জব্দকৃত দুটি ভারতীয় গরুর বিষয়ে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, “যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তিন চিহ্নিত চোরাকারবারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুটি ভারতীয় গরু ও অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।”
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হলো এই শালঝোড় এলাকা। এ কারণে ওই সীমান্ত রুটে পুলিশের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের এই চোরাচালানের মরণনেশা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সীমান্তে গরু কিংবা মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”