নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় গভীর রাতে ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পরিচয়ে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পর অত্যন্ত তৎপরতার সাথে কাজ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
আজ ১৯ জুলাই রবিবার রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আঃ ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে ৭ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আঃ ওয়াদুদ মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা অস্ত্রের মুখে বাড়ির সকল সদস্যের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান কাপড়-চোপড় ও মুঠোফোনসহ বিপুল মালামাল লুট করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
ডাকাতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শাহিনুর ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতা ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার সিদলী এলাকার তালতলা থেকে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার রাজ কুমার (২৬), জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার আব্দুল হামিদ (৪৫) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চরলাল এলাকার শাহীন আলম (৪৮)। আটককালে তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি মোবাইল ফোন, নগদ ১১ হাজার ৪০০ টাকা এবং বেশ কিছু কাপড়-চোপড় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ডাকাতরা স্বীকার করেছে, এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আঃ ওয়াদুদ মিয়ার আপন ভাতিজা সায়েদুর রহমান রামিম। রামিমের সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনাতেই এই চক্রটি ডিবি সেজে ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িতে হানা দিয়েছিল। অভিযান টের পেয়ে সায়েদুর রহমান রামিমসহ চক্রের অন্য সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আটককৃত আসামিদের থানায় নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করা যাচ্ছে তাদের কাছ থেকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। পালিয়ে যাওয়া মূল পরিকল্পনাকারী রামিমসহ বাকি ডাকাতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।”
পরবর্তীতে নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: তরিকুল ইসলাম নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং পলাতক আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।