
বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সরকারি দপ্তরের ডিজিটাল রূপান্তর, অবৈধ জমি উদ্ধার এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম গতিশীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার সিভিল সার্জন আবুল ফাত্তাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল ও সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমীনসহ স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সভায় মূলত জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন। সভায় বিশেষ করে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া সরকারি খাস জমি উদ্ধারের বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য পায়। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের মামলার জট নিরসন, সঠিক সময়ে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি দপ্তরে ই-নথির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় অংশ নিয়ে (পি,পি) এ্যাডভোকেট নূরুল আমিন এবং স্থানীয় সংবাদিকরা জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দপ্তরের জবাবদিহিতা ও সমন্বয়হীনতা দূর করার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেন। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহিন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক ও স্থানীয় রেডিও লোকবেতার-এর পরিচালক মনির হোসেন কামাল।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার সকল দপ্তরের ওয়েবসাইটের শতভাগ হালনাগাদ ও ই-নথি ব্যবহারের জন্য কঠোর আহ্বান জানান। তিনি এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার কড়া নির্দেশনা দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি জমি উদ্ধারে বরগুনা জেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি দপ্তরের কর্মদক্ষতা যাচাই করা হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।