বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছেন ফ্রান্সের মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির স্বপ্ন ভেঙে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন বুট’ জয় করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টের বর্তমান ফরম্যাট চালু হওয়ার পর বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট নিজের কাছে রাখার এক অবিশ্বাস্য ও অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।
এবারের বিশ্বমঞ্চে ১০টি গোল করে গোলদাতার তালিকার শীর্ষস্থানটি নিজের করে রাখেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ৮টি গোল নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন, যদিও সেবার ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়েছিল তাঁর দল।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া এমবাপ্পে এবার শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত দুটি গোল করেন। গোলবন্যার সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে অবশ্য ইংল্যান্ড ৬-৪ ব্যবধানে জয়ী হয়। এই জোড়া গোলের সুবাদে ৩টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২-এ। আর এর মাধ্যমেই বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে কিংবদন্তি ক্লোসেকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন এই ফরাসি তারকা, যা লিওনেল মেসির চেয়ে একটি গোল বেশি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের উদীয়মান মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম এবং নরওয়ের গোলমেশিন স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবারের আসরে ৭টি করে গোল করে যৌথভাবে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
ইতিহাস গড়া এমন ব্যক্তিগত অর্জনের পরও অবশ্য কিছুটা মন খারাপ ফরাসি অধিনায়কের। জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলা এমবাপ্পে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে ফাইনাল ম্যাচটিতে খেলতে পারলে এবং দলের হয়ে ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারলেই আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম।” ট্রফি না পাওয়ার আফসোস থাকলেও এমবাপ্পের এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিন রূপকথা হয়ে থাকবে।