চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কিছু সংখ্যক বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপীড়নে সাধারণ জনগণের জনজীবন ও স্বাভাবিক চলাচল চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে কাটছে। দিন দিন নগরীতে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) ভোর ছয়টার দিকে প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বের হন চালক জুয়েল। রিকশা নিয়ে তিনি নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তিনজনের একটি ছিনতাইকারী চক্র সাধারণ যাত্রী সেজে বাকলিয়া আসার কথা বলে রিকশাটি ভাড়া করে। সহজ-সরল রিকশাচালক জুয়েল তাদের বেশভূষা দেখে সাধারণ যাত্রী মনে করে বাকলিয়া থানার পাশে ৮ নম্বর রোডের মুখে নিয়ে আসেন।
তবে ওই এলাকায় ভোরে কিছু লোকজনের আনাগোনা দেখতে পেয়ে পরিস্থিতি প্রতিকূল ভেবে ছিনতাইকারীরা চতুরতার আশ্রয় নেয়। তারা রিকশাচালককে পুনরায় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে যাওয়ার কথা বলে। সরল বিশ্বাসে চালক তাদের কর্ণফুলী নদীর পাড়ের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছামাত্রই জনশূন্য পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ছিনতাইকারীরা চালক জুয়েলের ওপর আচমকা চড়াও হয়। তাকে ব্যাপক মারধর ও রক্তাক্ত করে তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী রিকশাচালক জুয়েল অনন্যোপায় হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাকলিয়া থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন এবং মৌখিক অভিযোগ জানান। তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর তৎপরতা বা সুফল পরিলক্ষিত হয়নি।
স্থানীয় পরিবহন চালক ও সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, এভাবে যদি শ্রমজীবী চালকরাও প্রকাশ্য দিবালোকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে ভোরে বা রাতে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। এর ফলে একদিকে যেমন চালকদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে, অন্যদিকে ভোর ও রাতে জরুরি চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের চাকরিজীবীরা মারাত্মক যাতায়াত সংকটে পড়বেন। নগরীতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিএমপি (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) প্রশাসনসহ স্থানীয় থানা পুলিশের তীব্র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।