গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চুপাইর গ্রামে গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী। শত্রুতার জের ধরে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি খাবার হোটেলে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করেছে এবং পাশের একটি দোকানে তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ জুলাই শনিবার দিবাগত গভীর রাতে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে দোকান ও হোটেল বন্ধ করে নিজ নিজ বাড়ি ফিরেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এরপর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ওই এলাকায় হানা দেয়। তারা চরম শত্রুতা বশত ‘মায়ের দোয়া’ হোটেলে অগ্নিসংযোগ করে এবং পাশের দোকান থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
ভোর ৪টার দিকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয়রা টের পান। তাৎক্ষণিকভাবে শত শত মানুষ ছুটে এসে নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের তীব্রতায় হোটেলের ফ্রিজ, আসবাবপত্র, টেবিল, চেয়ার, রেক এবং রান্নার যাবতীয় সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া পাশের দোকান থেকে নগদ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ‘মায়ের দোয়া’ হোটেলটির মূল মালিক আব্দুর রহিম শিকদার, তবে এটি ভাড়া নিয়ে চালাতেন চাঁনমিয়া শেখ নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এই হোটেলের আয়ের ওপরই চলত তার পুরো সংসার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে চাঁনমিয়া শেখ বলেন, “সব শেষ হয়ে গেল। এই হোটেলের ওপরই আমার পুরো সংসার চলত। এখন আমি পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব?”
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা না গেলেও, শত্রুতার জের ধরেই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।