হৃদয়ভাঙা এক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আধুনিক ফুটবলের মহানায়ক লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়। ৩৯ বছর বয়সে এসে অধরাই থেকে গেল তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ‘ট্রফি’ জয়ের স্বপ্ন। মেগা ফাইনালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালী শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা একমাত্র জাদুকরী গোলেই নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্প্যানিশরা। এর আগে ম্যাচের শেষ ভাগে আর্জেন্টিনার তারকা মিডফিল্ডার লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আলবিসেলেস্তেরা, যা তাদের ওপর মানসিক ও কৌশলগত চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা ফাইনালে এসে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। স্পেনের জমাট রক্ষণ আর নিখুঁত আক্রমণের সামনে স্কালোনির শিষ্যরা এতটাই কোণঠাসা ছিল যে, ম্যাচের ১১৬তম মিনিট পর্যন্ত তারা প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি। ফলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের যে অনন্য রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন আর্জেন্টিনা দেখছিল, তা অধরাই থেকে গেল।
অন্যদিকে, এই শিরোপার পুরোপুরি যোগ্য দাবিদার ছিল স্পেন। শুধু ফাইনালের এই মহারণেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক, নান্দনিক ও আধিপত্য বিস্তারকারী দল। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে পাত্তা পায়নি কোনো প্রতিপক্ষই। তাই টুর্নামেন্ট শেষে ফুটবলের সেরার মুকুট যে একদম সঠিক ও যোগ্য দলের মাথাতেই উঠেছে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তেমন কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। বিদায়ের করুণ সুরে মেসি মাঠ ছাড়লেও, স্পেনের এই ঐতিহাসিক বিশ্বজয় ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণালি অধ্যায়ের সূচনা করল।