বাগেরহাটের মোংলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইফা আক্তার নামে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই অকাল মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয়াবহ চিত্র ও প্রশাসনের উদাসীনতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
নিহত শিশু ইফা মোংলা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা শাকিল তালুকদারের কন্যা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই শনিবার দুপুরে প্রচণ্ড জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে একই দিন সন্ধ্যায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) ভোরে শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিগনাল টাওয়ার এলাকাসহ মোংলার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও নর্দমার পানি এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান না থাকা এবং ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, লোকদেখানো মশক নিধন কার্যক্রমের কারণে আজ একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ গেল।
এদিকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের অভিযোগ, সরকারি এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের কারণে তারা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সময়মতো ডেঙ্গু শনাক্তকরণ এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো শিশু ইফাকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিন জানান, “আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট সাতজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচজন নতুন রোগী আসছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মশক নিধনে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রভাব মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। সচেতন মহলের মতে, মোংলার স্বাস্থ্য খাতের এই ভঙ্গুর দশা এবং দায়সারা মশক নিধন অভিযানের ফলে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন ডেঙ্গু আতঙ্কে বিপর্যস্ত। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কিট ও ওষুধ মজুদ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মোংলাবাসী।