যশোরে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য ঈদগাহ মাঠে নেওয়া সমস্ত প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্যাশন রিটেইল ব্র্যান্ড ‘সেইলর’ চলতি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করেছিল যশোর টাউন হল মাঠে। তবে সেখানে বর্তমানে বৃক্ষমেলা চলমান থাকায়, ফাইনাল ম্যাচটি শহরের ঈদগাহ মাঠে দেখানোর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন আয়োজকরা।
রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করেই ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একদল মুসল্লি ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন। তারা মাঠের ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার দাবিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনে তীব্র বাধা প্রদান করেন এবং একপর্যায়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আয়োজক কমিটি ও মুসল্লিদের সাথে জরুরি আলোচনা করে। দীর্ঘ আলোচনার পর শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ না দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই আয়োজকরা মাঠ থেকে তাদের সমস্ত বড় পর্দা ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেন।
ইয়াসিন আরাফাত নামে এক স্থানীয় মুসল্লি জানান, “ঈদগাহ মাঠ মুসল্লিদের জন্য একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান। সেখানে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো জুয়া ও ভিন্ন কালচারের সংস্কৃতি চলতে পারে না। খেলার নামে এমন অপসংস্কৃতি পবিত্র মাঠে চলবে, এটা সচেতন মুসলিম হিসেবে আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে এখানে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
বিক্ষুব্ধ মুসল্লি ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, ঈদগাহ মাঠ ধর্মীয় ইবাদতের জন্য নির্ধারিত। এমন একটি স্থানে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন মাঠের মর্যাদা ও পবিত্রতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সচেতন মুসলিম হিসেবে এই পবিত্রতা রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “শহরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা আয়োজক কমিটি, জেলা প্রশাসন ও মানববন্ধনকারী মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষেই ঈদগাহ মাঠে খেলা প্রদর্শনের আয়োজনটি স্থগিত করা হয়েছে।”
পুলিশ সুপার আরও জানান, ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে শহরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে জেলা পুলিশ সতর্ক নজর রাখছে। একই সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সজাগ ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।