মধ্যপ্রাচ্যে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো বিমান হামলার পর পুরো পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তেহরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ এক বিবৃতিতে একে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। হরমোজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এখন আমেরিকার সঙ্গে এক চূড়ান্ত এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় বিমান হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের গ্রেটার টুনব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও বন্দর আব্বাসে ইরানের নৌবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান স্থাপনাগুলোতে দ্বিতীয় দফার হামলা চালানো হয়। এ সময় হরমোজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া একটি তেল ট্যাংকারকেও মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে অচল করে দেয় বলে জানা গেছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও ক্ষোভ
মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি জানিয়েছে যে তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটির একটি রাডার সিস্টেম ও মার্কিন সেনাসদস্যদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে তেহরান এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
এদিকে, ইরানি গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আহভাজে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার একটি অংশ একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের কাছাকাছি আঘাত হেনেছে। এর ফলে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে খালি করে ফেলতে হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের হুঙ্কার ও মার্কিন নাগরিকের মুক্তি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড এখনো অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং খুব দ্রুতই তারা পরাজিত হবে। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “তারা আমাদের কর্মকাণ্ড পছন্দ করছে না এবং কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। আমরা দেখব আমাদের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়, নাকি আমরা চূড়ান্তভাবে বিষয়টির সমাপ্তি ঘটাই।”
তবে এই যুদ্ধাবস্থার মাঝেই একটি আশার আলো দেখা দিয়েছে। গত দুই বছর ধরে ইরানে আটক থাকা মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারিকে মুক্তি দিয়েছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের এই ‘সদিচ্ছাকে’ স্বাগত জানিয়েছেন।
বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট
উল্লেখ্য, হরমোজ প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চলতি মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।