জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শিমুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন, বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার, বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিয়া মো. শফিকুল আলম মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তহমিনা বেগম।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কাঁঠাল, আম, নিমসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। অতিথিরা নিজ হাতে চারা রোপণ করে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বায়ুদূষণ ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা দিন দিন বাড়ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যালয় থেকেই শিশুদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষার অগ্রসৈনিক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত চারজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান। অতিথিরা কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের মাধ্যমে দেশের সুনাম অর্জনে উদ্বুদ্ধ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়কে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।