রাজশাহীর মতিহার থানার একজন ইন্সপেক্টরের ভুয়া পরিচয় দিয়ে অভিযোগকারীদের ফোন করে আসামি ধরার খরচের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়েরের পরপরই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রতারকের কাছে কীভাবে পৌঁছালো, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটের দিকে ০১৭৯৮-৯৫৫৯৯৩ নম্বর থেকে নগরীর মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আকবর আলী (৭০) এর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার একজন ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দেয়। সে জানায়, ১২ জুলাই থানায় করা একটি অভিযোগের আসামি ধরতে তেল খরচ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রয়োজন। আকবর আলী জানান, ফোনকারী তার নাম ও অভিযোগের তারিখ সঠিকভাবে বলায় তিনি সন্দেহ করেননি এবং একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বর থেকে প্রতারকের দেওয়া ০১৮৩৯-১৬২২৯৪ নম্বরে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। কিছুক্ষণ পর আবারও ১ হাজার টাকা দাবি করা হলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
একই সময়ে মোছাঃ লিজা বেগমের কাছেও একই নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে মতিহার থানার ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে আসামি ধরার জন্য ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তার নাম, ঠিকানা ও অভিযোগের তথ্য সঠিকভাবে বলায় তিনি সরল বিশ্বাসে একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে প্রতারকের দেওয়া ০১৮৩৯-১৬২২৯৪ নম্বরে ১ হাজার টাকা পাঠান। পরে মামলা রুজুর কথা বলে আরও ৭ হাজার টাকা দাবি করা হলে লিজা বেগমের সন্দেহ হয় এবং তিনি প্রতারকের সঙ্গে হওয়া কথোপকথন ভিডিও করে রাখেন।
ভুক্তভোগী দুজন জানান, তারা রবিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) ও সেকেন্ড অফিসারের কাছে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাদের প্রশ্ন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরপরই প্রতারক কীভাবে তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করল?
এ বিষয়ে মতিহার থানার সেকেন্ড অফিসার রিপন সরকার বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের থানার ইন্সপেক্টর পরিচয়ে টাকা নিয়েছে, ওই নাম বা মোবাইল নম্বরের কোনো কর্মকর্তা আমাদের থানায় নেই।”
মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমি অভিযোগকারীদের তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়েছি। এরপরও যদি কেউ অন্য কাউকে বিকাশে টাকা দিয়ে থাকেন, সেটি তাদের বিষয়।” তবে অভিযোগকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রতারকের কাছে কীভাবে পৌঁছেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কীভাবে বলব?”
এ ঘটনায় থানায় তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।