তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানের মধ্যেই এক তীক্ষ্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘ইরানকে এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছে’। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বক্তৃতায় ট্রাম্পের দেওয়া এ বক্তব্যকে ইরানের প্রতি একটি বড় ধরনের কটাক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের বক্তব্য:
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ও ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার বিখ্যাত গ্রানাইট পাথরের পাহাড় মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা ইরানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি। ওরা এখন একটি সমঝোতায় আসার জন্য ভীষণ মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমরা ওদের জানাজার জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্ব এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিতেই ট্রাম্প এই সংবেদনশীল মুহূর্তটিকে বেছে নিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের শুরুর দিকেই নিহত হন খামেনি। ওই হামলায় তাঁর কন্যা, জামাতা, ১৪ মাস বয়সের নাতনি এবং পুত্রবধূও প্রাণ হারান।
জানাজা পেছানোর কারণ:
ইসলামী রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং উচ্চ নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানাজা পিছিয়ে দেয়। গত মাসে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর অবশেষে এই বিদায় অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয় এবং ইরানজুড়ে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়।
তেহরানে লাখো মানুষের ঢল ও প্রতিশোধের ডাক:
এদিকে তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি লাখো সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শোক অনুষ্ঠান থেকে প্রতিশোধের ডাক দিয়েছে ইরান।
শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, “জাতির এ প্রতিশোধের ডাক যেন পুরো বিশ্বের কান পর্যন্ত পৌঁছায়।” একই সুরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি বলেন, “আমাদের শহীদ নেতা এবং জাতির সব শহীদের রক্তের মূল্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই চড়া দামে দিতে হবে।”
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক ও অন্তর্বর্তী চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। উভয় দেশের কর্মকর্তারাই সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে যেকোনো সময় আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তেহরানের জানাজা অনুষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ইরান প্রশাসন।