নেত্রকোনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় সজীব মিয়া (২৫) নামের এক পিকআপ চালকের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। গত ১২ জুলাই রবিবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত সজীব মিয়া নেত্রকোনা শহরের আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ গ্যাসের তীব্র ব্যথা নিয়ে সজীবকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পাল যথাযথ চিকিৎসা দিতে অবহেলা করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সজীবের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় ক্ষুব্ধ লোকজন দ্রুত হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ক্ষোভে মারমুখী হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্যই রয়েছে। চিকিৎসায় হাসপাতাল বা কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি বা ত্রুটি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই, কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।” তিনি আরও জানান, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। সদর ফাঁড়ির একটি দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের অবহেলার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা খুব দ্রুতই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।