মাদক ব্যবসা করে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ নিয়ে এখন চরম আতঙ্কে পড়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শীর্ষ হেরোইন কারবারিরা। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে গোদাগাড়ীর শীর্ষ দুই মাদক কারবারির বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ জনের ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং পর্যায়ক্রমে গোদাগাড়ীর ১৮৪ জন হেরোইন মাফিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
কারাগারে থাকা গোদাগাড়ীর সবচেয়ে বড় মাদক কারবারি তারেক হোসেনের সম্পদ ক্রোক করার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে হেরোইন সিন্ডিকেটগুলোতে তোলপাড় চলছে। অনেকেই এখন নিজেদের অবৈধ সম্পদ লুকানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে সম্পদ ক্রোক করার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা।
যেভাবে জালে আটকাচ্ছে অবৈধ সম্পদ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের অবৈধ সম্পদ খুঁজে বের করতে কাজ চলছে। যাদের বৈধ আয়ের উৎস নেই অথচ বিপুল সম্পদ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে আদালতে মিস পিটিশন মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিচ্ছেন, যাতে এই সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করা না যায়।
আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে সহড়াগাছি গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী সায়েরা বেগমের প্রায় ৩৭৪ শতাংশ জমি ক্রোক করে ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মাদারপুর মহল্লার শীর্ষ কারবারি তারেক হোসেনের ২৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের ১৯৯ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মণ খানেক হেরোইন পাচার ও কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য
স্থানীয়রা জানান, তারেক হোসেন ভারত থেকে প্রতিমাসে মণ খানেক হেরোইন এনে দেশে সরবরাহ করতেন। গত বছরের এপ্রিলে যৌথ অভিযানে তার বাড়ি ও গরুর খামার থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৬ কেজি হেরোইন এবং নগদ ১৩ লাখ টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
একইভাবে সাগরপাড়া মহল্লার আরেক শীর্ষ মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদের প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশি অভিযান জোরদার হওয়ায় সে পরিবারসহ লাপাত্তা।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি
গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন,
“ক্রোকাদেশ থাকা সম্পত্তি কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। আদালতের এই আদেশ আমরা কঠোরভাবে প্রতিপালন করছি।”
গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি আইনজীবী সালাহউদ্দিন বিশ্বাস জানান, ক্রোকের খবরে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন বেনামে সম্পদ সরানোর চেষ্টা করবে, প্রশাসনকে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন,
“মাদক ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতেই এই ব্যবস্থা। গোদাগাড়ীর শীর্ষ ১৮৪ জন বড় হেরোইন কারবারির তালিকা আমাদের কাছে আছে। একে একে সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হবে।”