পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে রাজধানীর কোলাহল ও ব্যস্ত জীবনের বাইরে পরিবার নিয়ে একটু স্বস্তির খোঁজে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন নগরবাসী। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবারও (৩০ মে) এর ব্যতিক্রম ছিল না। ঢাকার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মতো এদিনও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল। বিনোদনের পাশাপাশি দেশের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে সব বয়সী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিকেলে আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউবা স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি।
শিশুদের ইতিহাস শেখার আগ্রহ:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে দুই সন্তান লিমন ও আয়ানকে নিয়ে এসেছিলেন ইভা আক্তার। সন্তানদের আনন্দঘন মুহূর্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশু মুক্তভাবে ইতিহাস জানার সুযোগ পায় না। তাই সন্তানদের নিয়ে এখানে এসেছি। ওরা খুব আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন কক্ষ ও পুরোনো জিনিসপত্র দেখেছে। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর পাশাপাশি ইতিহাস সম্পর্কে জানারও সুযোগ হয়েছে। এমন জায়গায় এলে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ে।”
পাঠ্যবইয়ের আহসান মঞ্জিল বাস্তবে:
দক্ষিণ বনশ্রী থেকে বাবা সানোয়ার হোসেন, মা তাসলিমা খাতুন ও ছোট বোন সাদিয়াকে নিয়ে এসেছিল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিদওয়ান হোসেন সাবিত। পাঠ্যবইয়ের চেনা ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখার অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিত বলল, “আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে পাঠ্যবইয়ে পড়ে জেনেছি। এরপর থেকেই এটি বাস্তবে দেখার তীব্র ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। অনেক পুরোনো আর ঐতিহাসিক জিনিস দেখেছি। বইয়ে যতটুকু পড়েছি, এখানে এসে তার চেয়েও বেশি তথ্য জানতে পারলাম। ইতিহাসকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পেরেছি।”
একই অনুভূতি প্রকাশ করলেন কেরানীগঞ্জের কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা আরেক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জীবন ইসলাম। বাবা সোনাই মুনসী, মা আঁখি বেগম আর দুই বোন সোনালী ও মরিয়মকে নিয়ে সে এসেছিল। তবে আসতে কিছুটা দেরি হওয়ায় বিকেল ৫টার নির্ধারিত সময়ে প্রবেশদ্বার বন্ধ হয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে দেখতে হলেও পুরো বিষয়টি বেশ উপভোগ করেছে সে।
জীবনের বাবা সোনাই মুনসী বলেন, “পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে একটু ঘুরতে বের হয়েছি। সন্তানদের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এখানে নিয়ে এসেছি। সময় কম থাকায় সবকিছু ভালোভাবে দেখতে পারিনি, তবে আবার আসার ইচ্ছা আছে।”
ঐতিহ্য জানার উপযুক্ত স্থান:
আহসান মঞ্জিলের সবুজ চত্বরে দাঁড়িয়ে আশরাফুল আলম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, রাজধানীর যান্ত্রিক ও ব্যস্ত জীবনের বাইরে পরিবার নিয়ে কিছুটা কোয়ালিটি টাইম কাটানোর জন্য এটি একটি অত্যন্ত উপযুক্ত জায়গা। একই সঙ্গে দেশের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভ করার দারুণ সুযোগ মেলে এখানে।