কোরবানির পশুর হাট কাঁপানো বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো সেই আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি। কোরবানির ঈদ থেকে বেঁচে যাওয়া মাথায় ঢেউখেলানো সোনালী-গোলাপি চুলের এই মহিষটিকে একনজর দেখতে চিড়িয়াখানায় ভিড় জমাচ্ছেন শত শত দর্শনার্থী। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে এমন উৎসবমুখর চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঈদের দিন হওয়ায় জাতীয় চিড়িয়াখানা সামগ্রিকভাবে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও ব্যতিক্রম কেবল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর খাঁচার সামনে। চিড়িয়াখানায় আসা প্রতিটি মানুষ একবারের জন্য হলেও ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচার সামনে আসছেন। ফলে অন্যান্য পশুর খাঁচার সামনে লোকসমাগম কম থাকলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর সামনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে খাঁচার সামনে কর্তৃপক্ষ একটি পরিচিতি বোর্ড ঝুলিয়েছে, যাতে লেখা— ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’ এবং ইংরেজিতে ‘অ্যালবিনো বাফেলো’।
বাস্তবের ট্রাম্পের সাথে মিল খুঁজছেন দর্শনার্থীরা:
রূপনগর থেকে পরিবারের সাথে আসা শিক্ষার্থী আজমিরা আক্তার বলেন, “মোবাইল ও খবরে জেনেছি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। ওকে দেখার জন্যই আজ মূলত আমাদের আসা। মোবাইলে যেমন দেখেছি, বাস্তবেও মহিষটি ঠিক তেমন। ট্রাম্পের মতো চুল ও লুক আছে ওর মধ্যে।”
মিরপুর ২ নম্বর এলাকা থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী মেহেদী হাসান জানান, তিনি আগে থেকেই এই মহিষের ব্যাপারে জানতেন। চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করার পর মানুষের মুখে মুখে শুনে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খাঁচার সামনে এসেছেন এবং এর অদ্ভূত সুন্দর চেহারার সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিল রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কিউরেটরের বক্তব্য:
অ্যালবিনো মহিষটির খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে ও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একদল ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। ঢাকা অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু ব্রত মল্লিক জানান, মহিষটিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত কৌতুহলের কারণে তাদের বিশেষ নজরদারি রাখতে হচ্ছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গতকাল বুধবার রাত ১১টার সময় চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই মহিষটির খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এটি চিড়িয়াখানার জন্য একদম নতুন প্রাণী, তাই মানুষের আকর্ষণও বেশি। তবে গাড়ি থেকে নামানোর সময় মহিষটির গায়ে সামান্য একটু আঁচড় লেগেছিল, সেখানে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।”
যেভাবে ‘খামারের ট্রাম্প’ হলো ‘চিড়িয়াখানার ট্রাম্প’:
অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির মাথার চুল ও চোখের মণি দেখতে অনেকটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় এর এই নামকরণ করা হয়। মহিষটি প্রথমে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ লালন–পালন করা হচ্ছিল। মে মাসজুড়ে দেশীয় গণমাধ্যম ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই মহিষটিকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রচারিত হয়।
পরবর্তীতে জিয়া উদ্দিন মহিষটি বিক্রি করেছিলেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরার মনিরুজ্জামানের কাছে। গত সোমবার খামারে লালগালিচা বিছিয়ে, রঙিন ধোঁয়া উড়িয়ে ও রাজকীয় সাজে মহিষটিকে মনিরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এটি একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী হওয়ায়, কোরবানি না দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে গতকাল বুধবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে পুলিশ মহিষটিকে মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।