খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারে সৎমায়ের নির্মম প্রতারণার শিকার হয়ে কান্নাকাটি করছে ১২ বছর বয়সী শিশু আপন সরকার। মামার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে অবুঝ শিশুটিকে জনাকীর্ণ বাজারে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন তার সৎমা প্রতিমা সরকার।
ভুক্তভোগী শিশু আপন সরকার গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সাপালিডাঙ্গা গ্রামের (শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরের পাশ) মালয়েশিয়া প্রবাসী বিধান সরকারের ছেলে।
শিশুটির বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী স্বামী বিধান সরকারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে গত ২৭ জুলাই (সোমবার) সকালে সৎমা প্রতিমা সরকার নিজের ঘর খালি করে গরু-বাছুর বিক্রি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। এরপর আপন এবং তার দুই সৎবোনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাবার বাড়ি সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে প্রতিমা সরকার তাঁর পরিচিত এক অজ্ঞাত যুবককে গাড়িতে তুলে নেন, যাকে আপন আগে কখনো দেখেনি।
পরবর্তীতে খুলনা জিরোপয়েন্ট থেকে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে তারা ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ইজিবাইকটি খর্ণিয়া বাজারে পৌঁছালে সৎমা ও ওই অপরিচিত যুবক মিলে আপনকে হাতখরচ বাবদ মাত্র ২০০ টাকা এবং এক নারীর ছবি হাতে ধরিয়ে দেন। তারা শিশুটিকে বলেন, “এখানেই তোর পিসির বাড়ি এবং পিসাইয়ের নাম পবিত্র বিশ্বাস। বাজারে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বাড়ি দেখিয়ে দেবে।” এই মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অবুঝ শিশুটিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে তারা দ্রুত সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে চম্পট দেন।
পরবর্তীতে আপন খর্ণিয়া বাজারের লোকজনের কাছে গিয়ে ছবি দেখিয়ে পবিত্র বিশ্বাসের ঠিকানা জানতে চাইলে স্থানীয়রা এমন কাউকে চেনেন না বলে জানান। তখনই অবুঝ শিশুটি বুঝতে পারে সে প্রতারণার শিকার হয়েছে। সম্পূর্ণ অপরিচিত জায়গায় নিরুপায় হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে কান্নাকাটি করতে থাকে শিশুটি।
আপন জানায়, তার সৎমায়ের বাবার বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের কদমতলা এলাকায়। তার নানা রণজিৎ বিশ্বাস, বড় মামা নিপেন বিশ্বাস এবং ছোট মামা অনুকূল বিশ্বাস।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে হিরোনময় মল্লিক ও খর্ণীয়া ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার আল-আমিন জোয়ার্দ্দার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানা পুলিশের এসআই তৈয়বের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ডুমুরিয়া থানা পুলিশ শিশুটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানাধীন সাপালীডাঙ্গা গ্রামে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও তাৎক্ষণিক কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা উদ্ধার করতে পারেনি।
ডুমুরিয়া থানা পুলিশের এসআই তৈয়ব জানান, শিশুটিকে রাতে খর্ণীয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মৃত্যুঞ্জয় দেবনাথের হেফাজতে নিরাপদে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে।