সোনালী আঁশের জেলা ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও উৎপাদনে আশাব্যঞ্জক চিত্র দেখা গেছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যার কারণে এবার গত বছরের তুলনায় পাটের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজলাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় বেশি।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সময়মতো চাষাবাদ, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ প্রদানের ফলে এবার পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই দমনে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করায় সোনালী আঁশের উৎপাদন আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার পাটাচাষিরা জানান, এবার পাটের গাছের বৃদ্ধি ও ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে সার, কীটনাশক ও জনমজুরির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। তাই বাজারে পাটের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। কৃষকদের মতে, বাজারে লাভজনক মূল্য পাওয়া গেলে আগামী মৌসুমে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বহুগুণ সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ শাহাদুজ্জামান বলেন, “পাটের উৎপাদন ও মানোন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে, যা জেলার কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”