নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা দৌলতপুর বিএল কলেজ রোড। সরকারি সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, স্থানীয় হাসপাতালে আসা রোগী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের চলাচলের প্রধান সড়ক এটি। অথচ বালুর ট্রাকের অবাধ ও বেপরোয়া চলাচলের কারণে সড়কটি এখন পথচারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম।
সম্প্রতি সরেজমিনে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, বৃষ্টি ও বর্ষার কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে আছে পুরো সড়কটি। বালু বোঝাই ভারী ট্রাকের চাকার চেইনে রাস্তা কেটে ছোটখাটো খালে পরিণত হয়েছে। তার মধ্য দিয়েই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে পার হচ্ছে সাধারণ ইজিবাইক ও পথচারীরা।
শুকনো মৌসুমে ধুলার রাজত্ব:
মার্চ থেকে মে মাস জুড়ে ঢাকা ছাড়া উন্মুক্ত অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে চলে এসব বালুর ট্রাক। এর ফলে পুরো রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হয় মোটা ধুলার আস্তরণ। ধুলোবালির হাত থেকে বাঁচতে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নাকে-মুখে গামছা বা মাস্ক বেঁধে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে এই এলাকায় শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, অ্যালার্জি ও চোখের নানা জটিলতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
বর্ষায় কাদার নরক:
সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো চিত্র বদলে যায়। অনিয়ন্ত্রিত বালুর ট্রাক থেকে গড়িয়ে পড়া বালু ও পানি জমে পুরো সড়ক পিচ্ছিল কাদার সমুদ্রে পরিণত হয়। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ইজিবাইক উল্টে যাওয়া ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মতো ঘটনা।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দিন-রাত মোড়ের ওপর ভারী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বালু পরিবহন করায় সড়কটি স্থায়ীভাবে ভেঙে নিঃশেষ হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না। অতি দ্রুত বিএল কলেজ রোডে ওভারলোডেড বালুর ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজ।