মাথায় নেই হেলমেট, কাঁধের ওপর মোবাইল চেপে একহাতে চালানো হচ্ছে দ্রুতগতির যানবাহন। অধিকাংশ চালকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, তোয়াক্কা নেই কোনো ট্রাফিক সিগন্যালের। ঢাকার প্রবেশদ্বার ও প্রান্তিক তিন উপজেলা—দোহার, নবাবগঞ্জ এবং কেরানীগঞ্জের সড়কগুলো এখন বেপরোয়া চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের চরম নিয়মভাঙার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
দোহারের জয়পাড়া, নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা ও বান্দুরা এবং কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও মাওয়া হাইওয়ের সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নৈরাজ্যের এই চিত্র দেখা গেছে। সড়কগুলোতে পথচারী পারাপারের জন্য তৈরি জেব্রা ক্রসিং ও স্পিডব্রেকারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। চালকদের চরম অজ্ঞতার কারণে জেব্রা ক্রসিং পরিণত হয়েছে পার্কিং জোনে। স্থানীয় কয়েকজন চালক জানান, ‘রাস্তা সুন্দর দেখানোর জন্য এই সাদা দাগ দেওয়া হয়েছে’—এমন ধারণাই লালন করছেন তারা। ফলে পথচারীরা পার হতে গেলে গতি কমানোর বদলে উল্টো বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত স্পিডব্রেকারগুলোতে দৃশ্যমান রঙ বা রিফ্লেকটিভ মার্কিং না থাকায় রাতে এগুলো মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে কিশোর ও তরুণদের হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া বাইক চালানো এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো এখন নিত্যদিনের চিত্র।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সাধারণ পথচারী বলেন, “জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হতে গেলেও গাড়ি গায়ের ওপর তুলে দিতে চায়। কোনো নিয়ম নেই, আইন নেই, আমরা যেন নিজেদের এলাকায় পরবাসী।”
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সাময়িক অভিযান চালিয়ে এই চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে সব স্পিডব্রেকারে রিফ্লেকটিভ রঙ করা, কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা এবং চালকদের ট্রাফিক সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশনের আওতায় আনা প্রয়োজন।