রাজশাহীর কলোনী এলাকার এক জরাজীর্ণ ছোট্ট কুটির। ভাঙাচোরা সেই কুটিরেই দৃষ্টিহীন স্ত্রীকে নিয়ে কোনো মতে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ ছাইদুল। বয়সের ভার আর চরম আর্থিক অনটনে বেঁচে থাকার তাগিদে এখন রাস্তায় রাস্তায় মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চাওয়া ছাড়া এই দম্পতির আর কোনো উপায় নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে জটিল বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন ছাইদুলের স্ত্রী। তখন দিনমজুর ছাইদুলের সামর্থ্য ছিল না স্ত্রীকে ভালো কোনো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার। অর্থাভাব আর উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে একে একে স্ত্রীর দুটি চোখই অন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকেই নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। আগে অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে সামান্য কিছু আয় করলেও দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর সাহায্য ছাড়া এক পা-ও চলাচলের সক্ষমতা হারান তিনি।
অন্যদিকে, স্বামী ছাইদুল দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে নিয়মিত কাজ জোটে না। রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় কাজের আশায় প্রতিদিন সারাদিন বসে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ঘরে ফিরতে হতো তাকে। এভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটে যায় বেশ কিছু বছর। অবশেষে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন হিসেবে দৃষ্টিহীন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে রাজশাহী শহরের অলিগলি ও রাস্তায় রাস্তায় সাহায্য তুলতে শুরু করেন তিনি।
এই দম্পতির এক মাত্র মেয়েসন্তান থাকলেও চরম অভাবের কারণে সে-ও মা-বাবাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে মা-বাবার কোনো খোঁজখবর নেয় না সে। পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তেমন কোনো আর্থিক বা বস্তুগত সাহায্য জোটে না।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বেঁচে থাকার করুণ লড়াইয়ে নামা এই বৃদ্ধ দম্পতির গল্প এখন স্থানীয়দের চোখে জল আনে। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষ একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে বৃদ্ধ বয়সে হয়তো অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই আর দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবেন অসহায় ছাইদুল ও তাঁর অন্ধ স্ত্রী।