শুক্রবার ভোরে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলারসহ চার বস্তা হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ জব্দ করেছে বনরক্ষীরা। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৬ থেকে ৭ জন শিকারি সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়।
শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বনরক্ষীরা একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার নির্দেশ দেন। এ সময় ট্রলারটি বনের পাড়ে ভিড়িয়ে শিকারিরা পালিয়ে যায়। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে চার বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ জব্দ করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। শিকারিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বনের ভেতরে প্রবেশ করে অবৈধভাবে হরিণ শিকার করা। পালিয়ে যাওয়া ৬ থেকে ৭ জন শিকারিকে আটকের জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
অভিযানের সময় সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে বনরক্ষীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেটিকে টেনে শেলারচরে নিয়ে আসেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাভর্তি মালা ফাঁদগুলো উদ্ধার করা হয়।
শেলারচর টহল ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, শিকারি চক্রটি ককশিটের বাক্সে বরফ ও শিকারের অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে সমুদ্রপথে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। ট্রলারটি কিছুটা ডুবে যাওয়ায় বরফসহ কিছু সরঞ্জাম ভেসে গেলেও চার বস্তা মালা ফাঁদ বনরক্ষীদের হাতে আসে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ ফাঁদ থেকে ধারণা করা হচ্ছে শিকারি চক্রটি বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট এলাকায় ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করা।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় শিকারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বনের প্রাণিসম্পদ রক্ষায় বনরক্ষীরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই চোরাশিকারিদের ছাড় দেওয়া হবে না।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে হরিণ শিকারিদের এ ধরনের তৎপরতা দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরবনের দুর্গম ও স্পর্শকাতর এলাকায় চোরাশিকার দমনে বন বিভাগের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।