“সুন্দরবন বাঁচলে দেশ বাঁচবে, ডাকাতদের দৌরাত্ম্য রুখতে হবে” – এই স্লোগানে নিরাপদ সুন্দরবনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সুন্দরবন উপকূলের বনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন দ্বীপবেষ্টিত গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার একটি মাদ্রাসার মাঠে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার পাঠানো ছবিতে সেই সমাবেশের চিত্রই দেখা যাচ্ছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি, কাঁকড়া আহরণকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) একই স্থানে বেড়িবাঁধের উপর মানববন্ধন করেছিলেন তারা।
বনজীবীদের অভিযোগ: অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে সুন্দরবনে *দাদা ভাই, ভাই ভাই, বাবু বাহিনী, জাহাঙ্গীর, আলিম ও আমির আলী বাহিনী নামে ৬টি সক্রিয় ডাকাত দল রয়েছে। তারা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যাওয়া জেলেদের কাছ থেকে নৌকাপ্রতি অগ্রিম টাকা আদায় করে কার্ড বা টিকিট সংগ্রহে বাধ্য করছে।
অপহৃত জেলেদের মুক্তির জন্য জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণের পরও অনেকে আবার দস্যুতা, বাঘ হত্যা ও হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
একজন জেলে বলেন, “আমরা বনে গেলে ফিরে আসতে পারব কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। আমরা লোক দেখানো অভিযান নয়, কার্যকর নিরাপত্তা চাই।”
কোস্টগার্ডের অভিযান
এদিকে গত ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতে সাতক্ষীরার আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় কোস্টগার্ডের সাথে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। ওই অভিযানে ১টি একনলা বন্দুক, ৬ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩টি ধারালো অস্ত্রসহ ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে।
৫ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি
সমাবেশের সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও বনজীবী ফোরামের সভাপতি *সালাউদ্দিন লিটন* এবং চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাস্টার আব্দুর রহিম ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
– ২৮ অক্টোবর – গাবুরা সোরা বেড়িবাঁধে মানববন্ধন (পালিত)
– ২৯ অক্টোবর – বিক্ষোভ সমাবেশ
– ৩০ অক্টোবর – বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান
– ১ নভেম্বর – শ্যামনগর প্রেসক্লাব ও ইউএনও কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান
– ২ নভেম্বর – সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি ও অবস্থান
চার দফা দাবি:
১. অবিলম্বে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে হবে।
২. জেলে-বাওয়ালিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আত্মসমর্পণের নামে নাটক বন্ধ করতে হবে।
৪. সুন্দরবননির্ভর মানুষের নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কামরুল ইসলাম বাবলু। এ সময় বক্তব্য দেন মাস্টার আব্দুর রহিম, মাওলানা এছাহাক আলী, নারী ইউপি সদস্য ফরিদা পারভীন, ইকবাল হোসেন মন্টু, কবিরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বনজীবীদের নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল ও যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে।