বাংলাদেশ আজ যে ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তথ্য, মাঠ পর্যায়ের চিত্র ও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘মেটিকুলাস ডিজাইনের’ অংশ। যে ডিজাইনে একটি উন্নয়নশীল, স্বনির্ভর বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞের সূত্রপাত জুলাই থেকে।
১. অর্থনীতি আজ ধ্বংসের মুখে:
– গত এক বছরে দেশে শতাধিক গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে।
– বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। লাখ লাখ যুবক আজ কর্মহীন। গ্রামে কাজ নেই, শহরে কাজ নেই।
– বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ৮০ টাকার সবজি ১৬০ টাকা, দিনমজুরের আয় ৫০০ টাকা। মানুষ কার্যত না খেয়ে মরছে।
– বৈদেশিক বিনিয়োগ বন্ধ, রিজার্ভে টান, টাকার মান পতন – সব মিলিয়ে অর্থনীতি আজ আইসিইউতে।
২. আইন-শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই:
– দেশজুড়ে চাঁদাবাজি এখন নিয়মিত ঘটনা। ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোথাও চাঁদা ছাড়া চলা যায় না।
– হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ছিনতাই প্রতিদিনের খবর। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।
– থানায় মামলা নেওয়া হয় না, বিচার হয় না। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জুলাইয়ের পর প্রশাসনকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এই ধ্বংস তিন ধাপে করা হয়েছে।
ক) প্রথমে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিতর্কিত ও দুর্বল করা।
খ) দ্বিতীয় ধাপে অর্থনীতির চাকা বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে কর্মহীন ও ক্ষুধার্ত করা।
গ) তৃতীয় ধাপে সামাজিক অস্থিরতা, বিভাজন ও ভয়ের সংস্কৃতি চালু করা।
পাইকগাছা থেকে খুলনা, ঢাকা থেকে প্রান্তিক গ্রাম – সর্বত্র একই চিত্র। একজন রিকশাওয়ালা বলছেন, “আগে দিনে ১০০০ টাকা আয় করতাম, এখন ৩০০ টাকাও হয় না।” একজন গার্মেন্টস শ্রমিক বলছেন, “কারখানা বন্ধ, ৩ মাস বেতন নেই।”
দেশের মানুষ আজ প্রশ্ন করছে – এই বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম?
আজকের এই কর্মহীন, নিরাপত্তাহীন, ক্ষুধার্ত বাংলাদেশের জন্য দায়ী জুলাইয়ের সেই মেটিকুলাস ডিজাইন। যারা জুলাইয়ের নামে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।