বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাহসী ও উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা থেকে রাজনীতির মাঠে নতুন দল গঠন করে আলোচনায় এসেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডাঃ মোঃ শামীম কামাল। লালমনিরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে তিনি এখন দেশজুড়ে আলোচিত।
১. পিতৃপরিচয়:
শামীম কামাল কোনো সাধারণ পরিবারের সন্তান নন। তিনি লালমনিরহাট-২ আসনের ৭ বারের সাবেক সংসদ সদস্য মোজিবুর রহমানের ছেলে। তার পিতা জাতীয় পার্টির রাজনীতির একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। পিতার আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন বলে তার নির্বাচনী হলফনামা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানা যায়।
২. সাহসী ও চিকিৎসক জীবন ও সামরিক জীবন:
তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর / পদত্যাগ করেন এবং পরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
শিক্ষা ও পেশা:
তিনি একজন চিকিৎসক এবং উচ্চশিক্ষিত। তার হলফনামা অনুযায়ী তিনি এমফিল ডিগ্রিধারী। সেনাবাহিনীতে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাতিসংঘ মিশন:
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত ছিলেন বলে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে বিডিআরে তার পোস্টিং হয়েছিল। তিনি বিদেশে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সম্পদ ও ব্যবসা:
তার নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যায়, তার দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ২ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিনিয়োগ রয়েছে, পাশাপাশি তার নগদ ৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণ (পরিবারের মোট ৫৫ ভরি), একটি ট্রাক ও দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে।
৪. বর্তমানে রাজনৈতিক দল গঠন – জনতার দল:
এটাই তার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়।
দল গঠন:
গত ২০ মার্চ ২০২৫, বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে “জনতার দল (Janatar Dal)”নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। স্লোগান ইনসাফ জিন্দাবাদ”।
পদ:
দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল নিযুক্ত হন।
কারা আছেন:
তার সাথে শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাব্বির আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) ইসমাইল ফারুক চৌধুরীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাবেক আমলা, এনজিও কর্মী, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যারা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিল, তারাও যোগ দিয়েছেন।
দর্শন:
তার ভাষায়, “ফিলিস্তিন আমাদের রাজনৈতিক দর্শনকে অনুপ্রাণিত করে। ফিলিস্তিনে দুই ঘণ্টার কম সময়ে নেতা তৈরি হয়। আমরা ঐতিহাসিকভাবে মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়াতে চাই না”।
লক্ষ্য:
দলের কনসেপ্ট নোট অনুযায়ী, তারা সৎ, সাহসী, শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক মানুষদের নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। এমনকি ১০ জন হলেও তাদের নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, দলের হিসাব সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তাদের স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য ৩০-৪০টি আসন জিতে প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করা, এবং ১০ বছরের মধ্যে সরকার গঠন করা।
বর্তমান অবস্থা:
তিনি লালমনিরহাট-২ আসন থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে ব্যবসা এবং পরে রাজনীতিতে আসা শামীম কামাল এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন পরীক্ষা। সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত তার দল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।