সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা এবং জেলে-বাওয়ালিদেরড় জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বেড়িবাঁধে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
‘সুন্দরবন বাঁচলে দেশ বাঁচবে, ডাকাতদের দৌরাত্ম্য রুখতে হবে’ স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ স্থানীয় নারী-পুরুষ অংশ নেন। কর্মসূচির আয়োজক ছিল সচেতন নাগরিক সমাজ, জেলে-বাওয়ালি ও সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলের হাজারো মানুষের জীবিকা বন ও নদীনির্ভর। কিন্তু বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে জেলে-বাওয়ালিরা জীবিকার প্রয়োজনে নদীতে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের অভিযোগ, অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা দাদা ভাই বাহিনী, বাবু বাহিনী ও মুন্না বাহিনীসহ বিভিন্ন বনদস্যু দলের তৎপরতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি এবং জিম্মি করে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একজন জেলে বলেন, “আমরা বনে গেলে ফিরে আসতে পারব কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না। আমরা লোক দেখানো তৎপরতা নয়, কার্যকর নিরাপত্তা চাই।”
আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটনের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর মানববন্ধন, ৩০ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশ, ৩১ অক্টোবর নীলডুমুরে গণমিছিল, ১ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এবং ২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
চার দফা দাবি
মানববন্ধন থেকে চারটি দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. অবিলম্বে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে হবে। ২. জেলে-বাওয়ালিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার ও মুক্তিপণ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক জীবিকা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
আয়োজকেরা জানান, তাঁদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তা রক্ষার দাবি। সুন্দরবনে নিরাপদে মাছ ধরা ও বনজ সম্পদ আহরণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।