মোল্লা শওকত হোসেন বাবুলের বর্ণচোরা রাজনীতি নিয়ে তোলপাড় খুলনায়
খুলনার রাজনীতিতে তিনি এখন ‘মিস্টার বহিষ্কার’ নামে পরিচিত। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু, তারপর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ‘দাস প্রথা’র অভিযোগ তুলে নাটকীয় পদত্যাগ, আর শেষমেশ সেই এনসিপি থেকেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে স্থায়ী বহিষ্কার!
বহিষ্কারের কালি শুকাতে না শুকাতেই নতুন দল জনতার দলের বিভাগীয় আহ্বায়কের চেয়ারে বসে পড়েছেন মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল। খুলনার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন – এটা রাজনীতি নাকি সুবিধাবাদ?
প্রমাণ-১: জাতীয় পার্টিতে ‘খায়রুল-বাবুল’ প্যানেলের দাপট
২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি নিজের ফেসবুকে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, “আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টি খুলনা মহানগর সম্মেলন। উক্ত সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে যথাক্রমে সৈয়দ খায়রুল ইসলাম ও আমি মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল।
নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন খুলনার দিকপাল প্রেসিডিয়াম সদস্য, বিভাগীয় সমন্বয়কারী হিসেবে। সেই দলেই তিনি পরে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হন। জাতীয় পার্টির দুর্দিনে সেই পদ ছেড়ে ভোল পাল্টান।
প্রমাণ-২: এনসিপিতে যোগদান ও ‘দাস প্রথা’র নাটক
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের দুই দিন পরেই তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। কিন্তু ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নিজের ফেসবুকে বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দেন। তার ভাষায়:
“আমার মতামত না নিয়ে আমাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে যা অনাকাঙ্ক্ষিত, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মধ্যযুগীয় দাস প্রথার সাথে সংগতিপূর্ণ।”
একটি দল তাকে পদ দিল, আর সেই পদকেই তিনি ‘দাস প্রথা’ বলে তাচ্ছিল্য করলেন এবং পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার কোথায়?
প্রমাণ-৩: পদত্যাগ নয়, আসলে স্থায়ী বহিষ্কার!
সবচেয়ে ঝাঁঝালো তথ্যটি এনসিপির অফিসিয়াল প্যাডে। ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের স্মারকে স্পষ্ট লেখা আছে, তিনি পদত্যাগ করেননি, তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতিবিরোধী কার্যকলাপের সুস্পষ্ট অভিযোগে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা এই বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন। অর্থাৎ, নিজের মুখ রক্ষায় পদত্যাগের নাটক সাজালেও দলের খাতায় তিনি একজন বহিষ্কৃত নেতা।
প্রমাণ-৪: বহিষ্কারের ১০ দিনের মাথায় জনতার দলে পুনর্বাসন
বহিষ্কারের কালি শুকানোর আগেই জনতার দলের ফেসবুক পেজে ঘোষণা আসে – “জনাব মোল্লা শওকত হোসেন বাবুলকে আহ্বায়ক এবং মো. ইয়াছিন আরাফাত মামুনকে সদস্য সচিব করে বিভাগীয় কমিটি কার্যকর করা হয়েছে।”
প্রশ্ন হচ্ছে, যে নেতা জাতীয় পার্টি ছাড়ে, এনসিপিকে ‘দাস প্রথা’ বলে, সেই দল থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হয়, তিনি কীভাবে ১০ দিনের মধ্যে আরেকটি দলের বিভাগীয় প্রধান হয়ে যান? এটা কি রাজনৈতিক আদর্শ, নাকি পদলোভী সুবিধাবাদ?
খুলনাবাসীর প্রশ্ন:
খুলনার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, খুলনার রাজনীতি এখন পদ-বাণিজ্য আর দলবদলের খেলায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে এনসিপি, এনসিপি থেকে জনতার দল – এই ‘ঠেকা’ রাজনীতি দিয়ে কি খুলনার মানুষের ভাগ্য বদলাবে? নাকি ব্যক্তিগত আখের গোছানোই শেষ কথা?
জনতার দল কি একজন বহিষ্কৃত নেতাকে দিয়ে খুলনা বিভাগে শক্তিশালী হবে, নাকি বিতর্কই তাদের পুঁজি হবে – সেটাই এখন দেখার বিষয়।