১৮৯০ সালে ১৩ জেলে পরিবারের বসতি, আজ প্রবাল দ্বীপের বড় অংশই বহিরাগত প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে, পরিবেশ হুমকির মুখে
খুলনা নয়, এবার নজর দেশের দক্ষিণের শেষ প্রান্তে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। আদি নাম নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ। ১৯০০ সালে ব্রিটিশরা এক খ্রিষ্টান সাধুর নামে নাম দেয় সেন্ট মার্টিন।
ইতিহাস বলছে, আজ থেকে ১৩৬ বছর আগে ১৮৯০ সালে চট্টগ্রাম ও রাখাইন থেকে আসা মাত্র ১৩টি দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার প্রথম এই দ্বীপে স্থায়ী বসতি গড়ে। সেই দ্বীপের আয়তন মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটার, অর্থাৎ ১,৯৭৬ একর।
এর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি মাত্র ৮৫০ একর। অভিযোগ উঠেছে, সেই ৮৫০ একরের বড় অংশই এখন স্থানীয়দের হাতছাড়া হয়ে বহিরাগত বড়লোক ও প্রভাবশালীদের দখলে।
কার কী আছে বলে আলোচনা:
স্থানীয় ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যে নামগুলো বারবার আসছে—
– সানরাইজ রিসোর্ট:কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির মালিকানাধীন বলে পরিচিত, যার বাড়ি টেকনাফে।
-কাঁটাতারে ঘেরা ১.৭৫ একর: সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ ও পরিবারের নামে জমি ঘেরা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
– জেমিকন গ্রুপের কটেজ: সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ ও তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান জেমিকন গ্রুপের প্রজেক্ট রয়েছে বলে জানা গেছে, বাড়ি যশোরে।
-সি প্রবাল বিচ, আটলান্টিক ক্রুজ, লাবিবা বিলাস, প্রিন্স হেভেন রিসোর্ট ও ফ্যান্টাসি হোটেল: কক্সবাজার, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন বলে পরিচিত, যাদের মধ্যে শিপিং ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও আবু জাফর প্রিন্সের নাম রয়েছে।
তবে এই তালিকায় ব্যতিক্রম — প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের “সমুদ্র বিলাস। এটি কোনো বাণিজ্যিক রিসোর্ট নয়, এটি ছিল লেখকের ব্যক্তিগত স্বপ্নের বাড়ি।
পরিবেশের প্রশ্ন:
১৯৯৯ সালে সরকার সেন্ট মার্টিনকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) ঘোষণা করেছে। আইনে এখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ, কাঁটাতার দিয়ে জমি ঘেরা ও প্রবাল তোলা নিষিদ্ধ।
কিন্তু বাস্তবে আপনি যে দুটি ছবি পাঠিয়েছেন — Fantasy Hotel & Resort ও Blue Marine Resort — এর মতো তিন-চারতলা পাকা ভবন এখন দ্বীপে শতাধিক। এতে কচ্ছপের প্রজনন, প্রবাল ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।
জনগনের দাবি:
স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের আমলে “জোর যার মুল্লুক তার” নীতিতে প্রভাব খাটিয়ে যারা জমি নিয়েছেন, তাদের বৈধতা যাচাই করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে এবং দ্বীপকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর সংরক্ষণে নিতে হবে।