বাঘের গর্জনের মধ্যে রাত কাটালেন ১১ নাবিক, সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
সুন্দরবনের পশুর চ্যানেলে তেলবাহী জাহাজের ধাক্কায় ডুবে গেছে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ ‘এমভি ফুলবাড়ী’। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সুন্দরী কোঠা-হারবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে থাকা ১১ নাবিক প্রাণে বাঁচলেও কয়লা ডুবে যাওয়ায় সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের হিরণপয়েন্টে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় নোঙর করা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ইয়াস জুপিটার’ থেকে কয়লা বোঝাই করে ঢাকার বাদামতলী/কালীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় ‘এমভি ফুলবাড়ী’।
পথে সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা তেলবাহী বাঙ্কার বোট ‘ওটি/এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ফুলবাড়ীর তলা ফেটে পানি ঢুকে জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটি আইআরএস ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর জাহাজে থাকা ১১ নাবিক লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ঝাঁপ দেন। সাঁতরে তাঁরা সুন্দরবনের একটি চরে আশ্রয় নেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বেতার বার্তা পেয়ে ‘এমভি রানিয়া-১৩’ তাঁদের উদ্ধার করে।
ডুবে যাওয়া জাহাজের মাস্টার মো. সুজন বলেন, “জাহাজ ডুবে গেলে আমরা সাঁতরে চরে উঠি। সেখানে অবস্থান করার সময় বাঘের গর্জন শুনতে পাই। অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাতে হয়।”
উদ্ধার হওয়া নাবিকরা হলেন মাস্টার মো. সুজন, ড্রাইভার প্রশান্ত চন্দ্র শীল, সুকানী মো. শাকিল, গ্রিজার প্রসেনজিৎ রায়, লস্কর মেহেদী হাসান বাপ্পি, মো. হোসেন মোল্লা, মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, মো. সোহান শেখ, বাবুর্চি লিটু শেখ, নয়ন শেখ ও গার্ড অনিল চন্দ্র সানা। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মোংলা শাখা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, জাহাজটি মূল বন্দর চ্যানেলের বাইরে ডুবে যাওয়ায় পশুর চ্যানেলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জাহাজের মালিকপক্ষকে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি।
এদিকে, ১ হাজার ২৫০ টন কয়লা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়লা ছড়িয়ে পড়লে পানির গুণমান ও জলজ প্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এর আগেও ২০১৪ সালে তেলবাহী জাহাজ এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কয়লাবাহী জাহাজ ডুবে সুন্দরবনের পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। নতুন এই দুর্ঘটনার পর দ্রুত জাহাজ উদ্ধার, কয়লার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণের দাবি সামনে এসেছে।
কালান্তর নিউজ