বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক প্রভাবশালী, দৃঢ়চেতা ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা, সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি নিজস্ব নেতৃত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন এক অনন্য অবস্থান।
বেগম খালেদা জিয়া নিজের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণেই স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর পরিচয়ের জন্য অন্য কারও পরিচয়ের প্রয়োজন হয়নি। রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও নিজের বিশ্বাস, অবস্থান ও সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার কারণে তিনি সমর্থকদের কাছে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
একজন প্রকৃত নেতার মূল্যায়ন কেবল তাঁর পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার অবস্থান দিয়ে হয় না; বরং তাঁর ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রেখে যাওয়া অবদানই হয়ে ওঠে মূল্যায়নের প্রকৃত মানদণ্ড। সেই বিবেচনায় বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন, অর্জন, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
সময় পরিবর্তিত হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে, নেতৃত্বের পালাবদল হয়। কিন্তু কিছু ব্যক্তিত্ব তাঁদের কর্ম, সাহস, আত্মমর্যাদা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নেন। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি ছিলেন নিজের পরিচয়ে পরিচিত, নিজের দৃঢ়তায় প্রতিষ্ঠিত এবং নিজের রাজনৈতিক পথচলায় স্বতন্ত্র। তাঁর জীবন, নেতৃত্ব ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র সম্মান।
— ইঞ্জি. কাজী সাইমুম সিরাজ