কবিতা: রক্তে কেনা পতাকা
লেখিকের নাম: রোজিনা খাতুন
প্রারম্ভিক কথন: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মা-বোনের অসীম ত্যাগ, সম্ভ্রমহানি, স্বজন হারানোর বেদনা এবং একজন দশ বছরের শিশুর চোখে যুদ্ধের বিভীষিকাময় স্মৃতি নিয়ে রচিত আবেগঘন কবিতা— ‘রক্তে কেনা পতাকা’।
📜 মূল কবিতা
সত্যি সেদিন আমি খুব অবাক হয়েছি,
যেদিন মায়ের চোখে প্রথম ভয় দেখেছি।
মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে—
সেদিন ভোর হবার আগে—
পাশের ঘরে মা আর বোনের আর্তনাদ,
কেঁদেছে দুজন সারাটা রাত।
আজও কারণ খুঁজে পাইনি,
মা-বোন তার পরে কোনোদিনও হাসেনি।
চারিদিকে নিস্তব্ধ শুনশান পরিবেশ,
শকুনির পাহারা দেয়ালের ওপাশ।
সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে,
মা আর বোনের ইজ্জতের উপরে।
বোনটা হঠাৎ করেই মরে গেলো,
অমানবিক নির্যাতনে জীবন দিলো।
বাবা সে কবেই যুদ্ধে গেছে—
জানি না বেঁচে নাকি মরে গেছে!
আবার ভাবছি, বাবা আর ভাই বেঁচে আছে তো?
নাকি গুলির জোয়ারে ছারখার দেহজোড়া?
পেটের ক্ষুধায় গড়াগড়ি করি,
মা কিচ্ছুটি বলে না, শুধু কাঁদে—
হাঁড়ির মধ্যে শুধু পানি রাঁধে।
মায়ের মুখের কথা কতদিন শুনি না!
কতদিন হয়ে গেলো গল্প বুনি না।
দশ বছর বয়সেও আমি সব বুঝি,
তবুও মন খারাপের কারণ খুঁজি।
যুদ্ধের শেষে চারিদিকে জয়ের মিছিল,
স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ।
ভাইয়ের হাতে পতাকা উড়ে,
ফিরে এসেছে আপন নীড়ে।
মা দুফোঁটা অশ্রু মুছে,
ভাইকে বুকে জড়িয়ে বলে—
“তোর বাবা বুঝি শহীদ হয়েছে?
দুঃখ করি না, জীবনের বিনিময়ে দেশ পেয়েছি—
ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি!
তোদের বাবা বেঁচে থাকবে পতাকা হয়ে,
উড়বে চিরকাল নীলদিগন্তে।”