জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্যগুলোর একটি হলো—যে মানুষ দুজন আমাদের পৃথিবীতে নিয়ে আসেন, তাঁদের ত্যাগের ঋণ কোনো আর্থিক মানদণ্ডে শোধ করা সম্ভব নয়। শৈশব ও কৈশোরে নিজেদের সব সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে বাবা-মা সন্তানকে মানুষ করেন। অথচ সন্তান বড় হয়ে উপার্জনক্ষম হলে অনেক সময় বাবা-মাকে সময় দেওয়া কিংবা তাঁদের প্রয়োজন মেটানোকে অনেকেই বাড়তি দায়িত্ব বা খরচ হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
বাবা-মায়ের জন্য ব্যয় করা অর্থ কোনো দয়া বা খরচ নয়, বরং এটি তাঁদের প্রতি সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব ও ভালোবাসার প্রকাশ। বয়সের সাথে সাথে বাবা-মায়ের শারীরিক সক্ষমতা কমার পাশাপাশি তৈরি হয় মানসিক একাকিত্ব। অনেক বাবা-মা সন্তানের আর্থিক চাপের কথা ভেবে নিজেদের অসুস্থতা বা প্রয়োজনের কথা চেপে রাখেন। তাই সন্তানের উচিত না চাইতেই তাঁদের প্রয়োজন বুঝে নেওয়া।
টাকা-পয়সা ও বৈষয়িক সাফল্য আবার উপার্জন করা সম্ভব হলেও হারিয়ে যাওয়া বাবা-মা কিংবা তাঁদের সাথে কাটানো সময় আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। জীবনে বড় কোনো অনুশোচনা তৈরি হওয়ার আগেই তাঁদের চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া, পাশে বসে গল্প করা এবং সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বাবা-মাকে খরচের খাতায় না রেখে ভালোবাসার খাতায় রেখে তাঁদের জীবিত থাকা অবস্থাতেই সঠিক মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য।