যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষের শেষ বাঁশিটি যখন বাজল, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহানায়ক লিওনেল মেসি তখন মাঠের বুকেই লুটিয়ে পড়লেন। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে চেষ্টা করলেন বুকের ভেতরের তীব্র হাহাকার লুকাতে। সতীর্থ কিংবা প্রতিপক্ষ—কারো সান্ত্বনাতেই যেন আজ বাঁধ মানছিল না তাঁর চোখের জল। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো আর্জেন্টিনার, আর সেই সাথে কান্নায় চৌচির হয়ে শেষ হলো লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ অধ্যায়।
পুরো ম্যাচজুড়েই স্প্যানিশ রক্ষণের কড়া পাহারায় একপ্রকার নিষ্ক্রিয় ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিটের জমজমাট লড়াইয়ে তাঁর দল জালের ঠিকানা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচ শেষে রানার্সআপ মেডেল নেওয়ার সময় নিজেকে সামলে রাখলেও, মেডেল গলায় ঝুলিয়ে যখন মঞ্চ থেকে নেমে আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের গ্যালারির দিকে এগিয়ে যান, তখনই আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ঠিক কয়েক মিনিট আগে মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
আমেরিকার মাটির এই টুর্নামেন্টটিই যে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, তা ম্যাচ শেষের এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়াই স্পষ্ট করে দিয়েছে। ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও, জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ স্তরের এই বিশ্বমঞ্চে তাঁকে আর দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই; কারণ পরবর্তী ২০৩০ বিশ্বকাপ যখন অনুষ্ঠিত হবে, তখন মেসির বয়স দাঁড়াবে ৪৩ বছরে। ক্যারিয়ারে এটি ছিল মেসির খেলা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ এবং চার বছর আগে কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপে পরম আরাধ্য ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি।
বিদায়ের সুর যতই করুণ হোক না কেন, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন এই আর্জেন্টাইন জাদুকরের দখলে।
| পরিসংখ্যানের বিবরণ | অর্জিত রেকর্ড |
|---|---|
| অংশগ্রহণকৃত টুর্নামেন্ট | ৬টি আসর |
| মোট ম্যাচ সংখ্যা | ৩৪টি (বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ) |
| মোট গোল | ২১টি (বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ) |
| অ্যাসিস্ট (গোল করানো) | ১২টি (বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ) |
| ম্যাচ জয় | ২৩টি |
| ড্র | ৫টি |
| পরাজয় | ৬টি |
| ম্যাচ সেরা (Man of the Match) | ১৬ বার (রেকর্ড) |
| বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন | ১ বার (২০২২, কাতার বিশ্বকাপ) |
| বিশ্বকাপ রানার্সআপ | ২ বার (২০১৪ ও ২০২৬) |