চিকিৎসা নিতে এসে রোগী যেন সুস্থ হওয়ার বদলে আরও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি না হন—এটাই একটি সরকারি হাসপাতালের ন্যূনতম প্রত্যাশা। কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন সিঁড়ি, বারান্দা ও চলাচলের স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা, মেঝেময় ছড়ানো ধুলাবালি ও বর্জ্য এবং দেয়ালে পানের পিকের দাগ দেখা যাচ্ছে। শুধু পরিচ্ছন্নতার অভাবই নয়, কিছু স্থানে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের তার অগোছালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া রোগীদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম লিফটগুলো নিয়মিত সেবা না দেওয়া এবং দরজা ঠিকমতো না খোলাসহ কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
খুলনা শহর ও আশপাশের কয়েক জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত এই সরকারি হাসপাতালটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যেখানে সেবা নিতে আসেন, সেখানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সচল অবকাঠামো নিশ্চিত না থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীরা জানান, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকলে হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি স্বাস্থ্য খাতে সরকার প্রতিবছর যে অর্থ বরাদ্দ দেয়, তা পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ ও অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের কাজের মান যাচাই ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালটিতে জরুরি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনা, ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামত এবং লিফটগুলোর যথাযথ কারিগরি সেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।