অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, দূষিত পানি ও আণুবীক্ষণিক ডিম বা লার্ভার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে কৃমি। নীরব পরজীবী হিসেবে অন্ত্রে বাস করে এগুলো শরীর থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণের মাধ্যমে রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি, হজমের গোলযোগ ও অনাক্রম্যতা (ইমিউনিটি) কমানোর মতো গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে দিনে গড়ে প্রায় ০.২ মিলিলিটার রক্ত শোষন করে। ফলে শিশু ও বয়স্ক উভয়ই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। বিশেষ করে মাটির সং্পর্শ ও অপরিষ্কার হাতের কারণে শিশুরা কৃমি সংক্রমণের সবচেয়ে বড় শিকার হয়।
কত দিন পরপর খাবেন কৃমিনাশক ওষুধ?
সাধারণত কৃমির প্রকোপ বেশি এমন অঞ্চলে প্রতি ৬ মাস পর পর পরিবারের সবার এক সাথে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রতি ৩ মাস পরপর পরিবারের সবাই একটি করে অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট খেতে পারেন। আর মেবেনডাজল হলে পরপর তিন দিন খেতে হয় এবং প্রয়োজনে সাত দিন পর আরেকটি ডোজ নেওয়া যায়।
শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক সিরাপ খাওয়াতে হবে, তবে ২ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া গর্ভবতী নারী ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পেট ফাঁপা, অব্যক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, রক্তাল্পতা কিংবা মলদ্বারে চুলকানির মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। (সূত্র: এনডিটিভি)