সম্প্রতি উন্মোচিত হওয়া গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর ভয়াবহতা, মানবতাবিরোধী নির্যাতন এবং স্বজনহারাদের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে রচিত হয়েছে বিশেষ কবিতা ‘আয়নাঘর’। কবি রোজিনা খাতুনের লেখনীতে উঠে এসেছে বন্দিশালার দেয়ালের কান্না, সমাজ সংস্কারের আকুতি এবং মানবিক প্রতিবাদের বলিষ্ঠ সুর। পাঠকদের জন্য কবিতাটি তুলে ধরা হলো:
আয়নাঘর তুই কত নিষ্ঠুর, কত নির্মম!
কত বড় জালিম সে, যে করেছে নির্মাণ।
নামটা লিখতেই গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল,
ভাবতে ভাবতে হাত-পা সব ঠাণ্ডা হয়ে এল।
আর কী দেখার বাকি আছে জানা নাই,
জীবনে তো এমন আয়নাঘরের নাম শুনি নাই!
কত পাষণ্ড হলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে?
নির্দয়ভাবে নির্যাতন, গুম আর খুন করতে পারে!
আয়নাঘরের দেয়ালে দেয়ালে লেখা শত শত আর্তনাদ,
সেখানে যারা বন্দি, তারা বোঝে না কোনো দিন-রাত।
কত হাজার-কোটি টুকরো জমা লাশের পাহাড়,
এ তো দেখছি বাংলাদেশে বেঁচে থাকাই চরম লজ্জার!
কত মা হারিয়েছে সন্তান, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামী,
আয়নাঘরের নিষ্ঠুরতার সাক্ষী তারা বড্ড দামি।
আয়নাঘরের অলিগলি দেখতে কত যে ভয়ংকর,
চার দেয়ালে বন্দি আজ শত কষ্টের হুঙ্কার!
আর কখনো দেখতে চাই না এমন পাষণ্ড আয়নাঘর,
চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশের করতে হবে সংস্কার।