বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের বিভীষিকা, হানাহানি এবং মনুষ্যত্বের চরম অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে শান্তির আহ্বান জানিয়ে কবি ও লেখক হাবিবুর রহমান (মুকুল) রচনা করেছেন তাঁর বিশেষ কবিতা ‘বিভীষিকাময় বিশ্ব’। ধ্বংসের রাজনীতি ও মারণাস্ত্রের মহড়া পেরিয়ে একটি ভালোবাসা ও সম্প্রীতিময় পৃথিবী গড়ার বার্তা ফুটে উঠেছে এ কবিতায়। পাঠকদের জন্য কবিতাটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
বিশ্ব আজ অস্থির, তোলপাড়—
মানুষে মানুষে নেই কোনো ছাড়।
দিগ্ভ্রান্ত মানবতা ছুটে চলে অজানা নেশায়,
কোন পথে তার গন্তব্য—
জানে না কেউ, জানে না সে নিজেও।
যুদ্ধের দামামা বাজে,
ধ্বংসস্তূপে কাঁদে জনপদ;
রক্তে রঞ্জিত রাজপথ,
বিকৃত বিবেক আজ নীরব, নির্বাক, স্তব্ধ।
ন্যায়-অন্যায়ের সীমারেখা মুছে যায়,
মানুষের মুখে মানুষই হারায়।
মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে
মানুষ হতে পারলাম কই?
মনুষ্যত্বের দীপ নিভে গেছে,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আজ ক্ষয়।
অন্ধকারের গভীর গহ্বরে
সভ্যতা কেন নিমজ্জিত হয়?
এক মানুষের যন্ত্রণায়
অন্য মানুষের হৃদয় কেন কাঁপে না আর?
কোথায় হারাল মমতা,
কোথায় মানবতার সেই অমলিন অধিকার?
হানাহানি, রক্তপাত,
শিরচ্ছেদ আর ধ্বংসের উল্লাস—
কোন জাতির পরিচয়ে মানুষ
মানুষের বিরুদ্ধে তোলে সর্বনাশের অস্ত্র?
মানুষই বানায় মারণাস্ত্র,
মানুষই তা তাক করে মানুষের বুকে;
বিজ্ঞান যদি জীবন বাঁচাতে না পারে,
তবে সে বিজ্ঞান কেন
মৃত্যুর উৎস হয়ে ওঠে?
এ জঘন্য উন্মাদনা থামাতেই হবে আজ;
ধ্বংসের রাজনীতি পেরিয়ে
মানবতার হোক নতুন সমাজ।
জাগো, জাগো বিশ্ববিবেক—
হও প্রতিবাদে সোচ্চার。
থামাও যুদ্ধের উন্মাদনা,
নিভাও অস্ত্রের ঝনঝনকার।
আমরা তো জন্মেছি
ভালোভাবে বাঁচার আশায়;
ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ছড়াই—
রক্ত নয়, শান্তির পতাকা উড়াই।
এসো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভুলে
মানুষের পাশে দাঁড়াই;
ধ্বংস নয়, নির্মাণের পথে
একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ি ভাই।
মানুষের পৃথিবী হোক মানুষেরই,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রতিটি প্রাণ;
যুদ্ধের অন্ধকার পেরিয়ে
শান্তির সূর্যে উদ্ভাসিত হোক
সমগ্র বিশ্বমানবতার ভুবন।