উপেক্ষা, অবহেলা ও আত্মত্যাগের গভীর অনুভূতির সমন্বয়ে কবি মুন্নি খাতুন রচনা করেছেন তাঁর অনন্য কবিতা ‘আমি’। কবিতার প্রতিটি চরণে আত্মপীড়ন ও বেদনার পাশাপাশি ফুটে উঠেছে মানবিকতার সর্বোচ্চ শক্তি ও ইতিবাচকতার ছোঁয়া।
উপলব্ধির নানা বৈপরীত্য প্রকাশ করে কবি দেখিয়েছেন—যে মানুষটি সমাজের চোখে অবহেলিত বা পরিত্যক্ত, সে-ই আবার কারও জীবনের বটছায়া, সফলতার শুভ্র চেতনা কিংবা বৃদ্ধার শেষ সম্বল।
পাঠকদের জন্য কবি মুন্নি খাতুনের ‘আমি’ কবিতাটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:
আমি
— মুন্নি খাতুন
আমি নিগৃহীত, আমি পদদলিত ধুলো।
আমি ছাই ফেলার মূল্যবান সে ভাঙা কুলো।
আমি অবাঞ্ছিত, আমি অতিরিক্ত
আমি অভিনয়-মাখা হাসিতে সিক্ত।
আমি নিরেট বোকা, আমি মূল্যহীন
আমি উদাম পথশিশুর হাসির মালকিন।
আমি ঐচ্ছিক, আমি যেন বিকল্প
আমি এক জীবন্ত বিরহের গল্প।
আমি অবান্তর, আমি উদ্ভট
আমি ক্লান্তি শেষে ছায়াঘেরা বট।
আমি পরিত্যক্ত, আমি অবহেলিত
আমি এক উত্তম আদর্শে লালিত।
আমি বোঝা, আমি বীভৎস যাতনা।
আমি সফলতার এক শুভ্র চেতনা।
I am curse, I am darkness (আমি অভিশাপ, আমি তমশা)
আমি বৃদ্ধার শেষ সম্বল আর ভরসা।
আমি অপ্রকাশিত অনুভূতি ও না-বলা অভিব্যক্তি।
আমি নিঃস্বের বেঁচে থাকার এক শেষ চুক্তি।