শিক্ষক জাতি গঠনের প্রধান কারিগর। একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে, তাঁদের ন্যূনতম কল্যাণ ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত মাসিক টিফিন ভাতা মাত্র ২০০ টাকা, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের হিসেবে গড়ে দাঁড়ায় মাত্র ৬ টাকা ৬৭ পয়সায়।
বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী বাজারব্যবস্থায় এই সামান্য অর্থে ভালো এক কাপ চাও কেনা সম্ভব নয়। সেখানে একজন শিক্ষক দীর্ঘ কর্মঘণ্টার মাঝে কীভাবে টিফিন করবেন, তা সহজেই অনুমেয়। এমন একটি ভাতার কাঠামো শুধু অপ্রতুলই নয়, বরং চরম বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সামগ্রিক শিক্ষক সমাজের প্রতি এক ধরনের নির্মম অবমূল্যায়নের প্রতীক।
সময়ের সাথে সাথে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই বহু বছর আগের একটি প্রাচীন ও নামমাত্র ভাতার কাঠামো ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগেও বহাল রাখা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানের এই হাস্যকর টিফিন ভাতা অবিলম্বে বাতিল করে বাস্তবসম্মত ‘লাঞ্চ ভাতা’ চালু করা এখন সময়ের জোরালো দাবি।
শিক্ষককে সম্মানিত করা মানেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করা। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। আশা করি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতার আলোকে নামমাত্র টিফিন ভাতার পরিবর্তে একটি যুগোপযোগী ও সম্মানজনক লাঞ্চ ভাতা চালুর দ্রুত উদ্যোগ নেবে।
লেখক:
খন্দকার এইচ. আর. হাবিব
প্রধান শিক্ষক, মৌলভীর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।