১৮ জুলাই—জুলাই আন্দোলনের ইতিহাসে এমন এক অনন্য ও অগ্নিঝরা দিন, যেদিন ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন সম্পূর্ণ নতুন এক মোড়ে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে এদিন দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর সরাসরি অংশগ্রহণ ও রাজপথ দখল পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দেয়। আন্দোলন আর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা দাবানলের মতো দ্রুত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলে দলে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি ও তীব্র বিক্ষোভে অংশ নেন। ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু ও দমন-পীড়নকে উপেক্ষা করে তাদের এই সাহসী ও বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর উপস্থিতি আন্দোলনকে বহুগুণ বেগবান করে তোলে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ সময় রাজপথে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, অভিভাবক ও সাধারণ জনতার সম্পৃক্ততা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৮ জুলাইয়ের রক্তঝরা ইতিহাস ও ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের পর আন্দোলন দমিয়ে রাখার স্বৈরাচারী সব কূটকৌশল ও চেষ্টা ব্যর্থ হতে শুরু করে। আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও সর্বস্তরের মানুষের নৈতিক সমর্থন এত দ্রুত বৃদ্ধি পায় যে, তা তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেয়। একের পর এক সমন্বিত কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের রাজপথে নেমে আসা এক নতুন ও অবশ্যম্ভাবী রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে ধাবিত হয়।
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ পরবর্তী সময়ের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত ও ত্বরান্বিত করেছিল। তাদের চূড়ান্ত মূল্যায়নে, এই ঐতিহাসিক দিনের ধারাবাহিক আন্দোলন ও আত্মত্যাগই শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের একদফা দাবিকে চূড়ান্ত ও জোরালো করে তোলে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থানের গতিমুখ নির্ধারণে তাই ১৮ জুলাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে স্থান করে নিয়েছে।