সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী দাবিকারী মো: আমির আলি গাইন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বিকাল ৫টায় শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমির আলি গাইন বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট জমির ডি.সি.আর (DCR) নিয়মিত নবায়ন করে আসছেন। উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলা (নং-২০০/৯০) জেলা প্রশাসক রাজস্ব আদালতে দীর্ঘ শুনানির পর নিষ্পত্তি হয়ে ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তার অনুকূলে রায় প্রদান করা হয়। ওই রায়ে মৌতলা জাহাজঘাটা ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ কমিটির অবৈধ দখল চিহ্নিত করে তা উচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষের মধ্যে আহসান হাবিবসহ কয়েকজন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে এবং ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর বিবাদীপক্ষের আপিলটি নামঞ্জুর হয়। এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিভিন্ন সময়ে উক্ত জমি উচ্ছেদ ও দখলমুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করলেও তা অদৃশ্য কারণে আজও বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ২০২৩ সালেও তার অনুকূলে ইজারা নবায়নের নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি জোর দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মৌতলা জাহাজঘাটা এলাকায় আ: সামাদ, আবু সাদ, নুরালী, রমজান আলি ও আনারুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একত্রিত হয়ে তাকে কেন্দ্র করে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে “মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” সংবাদ প্রচার করেন।
আমির আলি গাইন বলেন, “আমি একজন আইন ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমার বৈধ কাগজপত্র ও আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে আমার সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছে। এখন আবার মানববন্ধনের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও নিন্দনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার জমি ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন প্রকৃত ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”