নেত্রকোনার বারহাট্টায় কর্মরত দৈনিক জনবাণীর বারহাট্টা উপজেলা প্রতিনিধি ও বারহাট্টা প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক ওমর ফারুককে মোবাইল ফোনে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বারহাট্টা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
থানায় দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টা সদর ইউনিয়নের অতিথপুর গ্রামের ঝুমা আক্তার গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে “বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাৎ” এর অভিযোগ এনে বারহাট্টা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিক ওমর ফারুক প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধানের স্বার্থে ভুক্তভোগী ঝুমার সাথে কথা বলেন এবং তার নিজের দেওয়া ভিডিও বক্তব্যসহ একটি পোস্ট ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন।
উক্ত ফেসবুক পোস্টের জের ধরে, ঝুমার দায়ের করা অভিযোগের বিবাদী বিক্রমশ্রী গ্রামের লাদেন মিয়ার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সাদ্দাম তালুকদার নামের এক ব্যক্তি গত ১৬ জুলাই সাংবাদিক ওমর ফারুককে ফোন দেন। ফোনে তিনি সাংবাদিককে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ গুলি করে হত্যার হুমকি দেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানারকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। হুমকিদাতা সাদ্দাম তালুকদার ফোনে আরও বলেন, “যে বা যারা আমার গ্রাম নিয়ে বদনাম করবে, তাকে গুলি করে মেরে ফেলতে দ্বিতীয়বার ভাববো না।” কথোপকথনের সময় হুমকিদাতা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, একজন সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও পুলিশের নাম উল্লেখ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চম্পক দাম বলেন, “সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অতি দ্রুত তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সাংবাদিক ওমর ফারুক জানান, এই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তিনি আইনি সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বারহাট্টা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।