রাজশাহীর উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন হাট-বাজারে আগাম নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আমেজ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকেরা।
জেলার দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ নতুন পাট ৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশ খানিকটা বেশি হওয়ায় পাট চাষিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পাটের বীজ বপন করা হয়। এরপর শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত চলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর মূল কাজ। তবে আগাম জাতের পাট জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই কাটা শুরু হয়ে যায়।
দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের চাষি আব্দুল আজিজ বলেন, “আগাম কিছু পাট কেটে বাজারে বিক্রি শুরু করেছি। প্রতি মণ ৪ হাজার টাকার ওপরে পাচ্ছি। এরকম দাম পুরো মৌসুম থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।” তবে বাজারে আমদানি বেশি হলে দাম কমে যাওয়ার ও লোকসানের শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। একই সুর শোনা গেল পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া গ্রামের চাষি রাকিব উদ্দিনের কণ্ঠে। তিনি জানান, ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারলে খরচ বাদে ভালো লাভ থাকবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৯৪ হেক্টর বেশি। এবার জেলায় ৪৯ হাজার ৩৩৩ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাগমারার তাহেরপুর হাটের মোকামে পাট বিক্রি করতে আসা চাষি আব্দুস সোবাহান জানান, পাটে পরিশ্রম ও শ্রমিক খরচ অনেক বেশি। বিশেষ করে জাগ দেওয়া ও শুকানোতে কষ্ট হয়। তবে এখনকার বাজারে যে দাম আছে, তাতে তারা খুশি। এদিকে পাট ব্যবসায়ী সলিম উদ্দিন জানান, এবার এলাকায় পানি কম থাকায় পাট জাগ দেওয়ার জায়গায় কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে, যার কারণে পাটের রঙ ও মান আশানুরূপ না হওয়ায় কেউ কেউ কিছুটা কম দাম পাচ্ছেন।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, “সবেমাত্র পাট ধোয়া ও শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে। হাটে হাটে অল্প পরিসরে নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে। এবার পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং শুরু থেকেই ভালো দাম বজায় রয়েছে। আশা করছি, চাষিরা এবার ভালো লাভবান হবেন।”