কুড়িগ্রামের ভূরুংগামারী সীমান্তে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসা এক মূল এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত এজেন্টের নাম মো. আলাল হোসেন। তিনি উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের জহুর উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলাল হোসেন ধলডাঙ্গা বাজারে ছোট একটি দোকানের মাধ্যমে ভূরুংগামারী উপজেলাসহ সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের কোচবিহার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটে টাকা রিচার্জ করার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘ নিবিড় নজরদারির পর ভূরুংগামারী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ধলডাঙ্গা বাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
অভিযান পরিচালনাকালে ভূরুংগামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মুনতাসির মামুন মুন ও ভূরুংগামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মো. আজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আটককৃত আলালের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত ৪টি স্মার্ট ফোন, বেশ কিছু মোবাইল সিম এবং অনলাইন জুয়ায় রিচার্জের কাজে ব্যবহৃত নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ভূরুংগামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মুনতাসির মামুন মুন জানান, “১৬৬ বছর পর ব্রিটিশ আমলে প্রণীত জুয়া আইন সংস্কার হয়ে নতুন ‘জুয়া আইন-২০২৬’ জারি হয়েছে। এই নতুন আইনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আমরা ভূরুংগামারী উপজেলাকে মাদক, চোরাকারবার ও জুয়ামুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর।”
ভূরুংগামারী থানার ওসি জনাব মো. আজিম উদ্দিন জানান, “জুয়া ও মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে সদ্য জারিকৃত ‘জুয়া আইন-২০২৬’ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।