‘কে ওই শোনালো মোরে আযানের ধ্বনি, মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিলো কি সুমধুর…’— কালজয়ী ‘আযান’ কবিতার রচয়িতা মহাকবি কায়কোবাদের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই ৯৪ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মহাকবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় কবির সমাধিস্থল জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে তাঁর জীবন, কালজয়ী সাহিত্যকর্ম ও অবদানের ওপর স্মৃতিচারণ করা হবে।
১৮৫৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান কবি। ১৯০৪ সালে তাঁর রচিত বিখ্যাত অমর কাব্যগ্রন্থ ‘মহাশ্মশান’ প্রকাশের পর তিনি ‘মহাকবি’ উপাধিতে ভূষিত হন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’ এবং পরবর্তীতে ‘অশ্রুমালা’, ‘কুসুম কানন’, ‘শিবমন্দির’ ও ‘মহরম শরীফ’-এর মতো মোট ১৩টি বাংলা কাব্যগ্রন্থ সাহিত্যপ্রেমীদের উপহার দিয়ে গেছেন তিনি।
মহাকবির স্মৃতি সংরক্ষণ নিয়ে স্থপতি ও স্মৃতি সংসদের সদস্যরা জানান, নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক আগলা পোস্ট অফিস এলাকায় একটি তোরণ/ফটক নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। দীর্ঘ ৮২ বছর ধরে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা খাঁটি বাঙালি এই মহাকবির অবদান চিরস্মরণীয় রাখতে সাহিত্যপ্রেমীরা তাঁর অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি উদ্ধার ও স্মৃতি সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন।