ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক বান্ধব বা বন্ধুর পাটখেত থেকে পাঁচটি বস্তায় ভর্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যমের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পাটখেতের বস্তায় মিলল ২ কোটি ২৪ লাখ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রভাবশালী নেতাকে নগদ ৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে তাঁর দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (২৭ মে) দীপঙ্করের বন্ধু শামীম গাজীর একটি পাটখেতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখানে মাটি খুঁড়ে পাঁচটি বস্তায় লুকিয়ে রাখা ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীপঙ্করের কাছে আরও বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকা ও সোনার গয়না লুকিয়ে রাখা রয়েছে, যা দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রাজমিস্ত্রি ও স্কুটার চালক থেকে কোটিপতি চেয়ারম্যান:
তৃণমূলের এই নেতার উত্থানের কাহিনী রূপকথাকেও হার মানায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং উপার্জনের জন্য স্কুটার চালাতেন। তবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে তিনি ধীরে ধীরে এলাকায় চরম প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচিত হন।
সব খাতেই চলত অবাধে ঘুষ বাণিজ্য:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অবাধে ঘুষ নিতেন দীপঙ্কর। রাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প যেমন— লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন কার্ড, বেকার ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং গরিবদের আবাসন প্রকল্পসহ সব ক্ষেত্রেই তিনি দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো সাধারণ কাজও করতেন না বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। দীপঙ্করের এই বিপুল দুর্নীতির খতিয়ান সামনে আসার পর স্থানীয় জনসাধারণের একটি বড় অংশ অবিলম্বে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণের জোর দাবি তুলেছেন।