পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে আজ সোমবার (২৫ মে) রাজধানী ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। গত ১৫ মে যারা অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, আজ তারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। সকাল থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও আজ উত্তরবঙ্গগামী দুটি আন্তনগর ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে আজ থেকেই ঈদযাত্রায় যুক্ত হয়েছে একটি ঐতিহাসিক নতুন সেবা—আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ বগি।
উত্তরবঙ্গের ২ ট্রেনে বিলম্ব ও যাত্রী ভোগান্তি:
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ দুপুর পর্যন্ত দুটি আন্তনগর ট্রেন সময়সূচি বজায় রাখতে পারেনি। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। আর ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিলম্বে কমলাপুর ত্যাগ করেছে।
রংপুরের যাত্রী হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব সময় উত্তরবঙ্গের ট্রেনই দেরি করে, অন্য ট্রেনগুলো ঠিক সময়ে যায়। প্রতি ঈদেই আমাদের এই একই ভোগান্তি পোহাতে হয়।” অবশ্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুটি বাদে দুপুর পর্যন্ত বাকি ১৩টি আন্তনগর এবং ৯টি কমিউটার ট্রেন একদম সঠিক সময়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে। আজ সারা দিনে কমলাপুর থেকে ৪৩টি আন্তনগর, ২৩টি কমিউটার এবং ১টি ঈদ স্পেশালসহ মোট ৬৭টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে।
আজ থেকে চালু হলো নারীদের বিশেষ বগি:
আজ সকালে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় নারী ও শিশুদের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে আন্তনগর ট্রেনে বিশেষ বগি চালু করা হয়েছে। আজ থেকে দূরপাল্লার ঢাকা-সিলেট রুটের ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেন দিয়ে এই সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এটি শুধু ঈদের সাময়িক ব্যবস্থা নয়, বরং ঈদের পরও স্থায়ীভাবে চালু থাকবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য সব রুটের ট্রেনেও নারীদের জন্য এমন বিশেষ বগি যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
কিছু ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার বিষয়ে মহাপরিচালক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “ঈদের সময় যাত্রী ও মালপত্র বেশি থাকে। স্টেশনে যাত্রীদের নামতে ও উঠতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। এছাড়া এখন ঝড়বৃষ্টির মৌসুম হওয়ায় লাইনে গাছপালা পড়েও অনেক সময় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।”
ছাদে যাত্রী ঠেকাতে কঠোরতা ও ৫১টি বাড়তি বগি:
এবারের ঈদযাত্রায় কাউন্টার বা স্টেশনের ভেতরে টিকিট ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কঠোরভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সাথে টিকিটের নাম মিলিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মিল না থাকলে স্টেশন থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রী দেখা যায়নি। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, “আমরা কঠোরভাবে শৃঙ্খলা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আশা করছি, পোশাক কারখানা ছুটি হলেও শেষ পর্যন্ত এই নিয়ম ধরে রাখা যাবে।”
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বিভিন্ন ট্রেনের সাথে নতুন ৫১টি বাড়তি বগি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ হাজার মানুষ যাতায়াত করতে পারছেন। বর্তমানে প্রতিদিন ৪৫ হাজারেরও বেশি আসনের টিকিট বিক্রির পাশাপাশি যাত্রার ২ ঘণ্টা আগে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং (দাঁড়ানো) টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার যাত্রী কমলাপুর স্টেশন দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন।