নারী যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার ‘পিংক বাস’ চালুর প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই বাসগুলোতে নারী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের পরিকল্পনা গণপরিবহনে নারীদের জন্য একটি সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তবে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে আমাদের বাস্তব আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখা জরুরি।
গণপরিবহনে নারীদের নিয়মিত নানা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে বাস চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নারী কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে ভাবা প্রয়োজন। পুরুষ সহকর্মী, যাত্রী কিংবা সড়কের বেপরোয়া যানবাহনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ থেকে তাঁদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
এ ক্ষেত্রে একটি বিকল্প ও ইতিবাচক ভাবনার সুযোগ রয়েছে—তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে চালক, কন্ডাক্টর বা সহকারী সেবা খাতে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে একদিকে নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সমাজের প্রান্তিক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য তৈরি হবে সম্মানজনক কর্মসংস্থান।
যদি প্রশাসনিক বা বাস্তব কারণে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হয়, তবুও নারী কর্মীদের সুরক্ষায় ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি নজরদারি রাখতে হবে। সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, রেষারেষি ও হয়রানির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
পিংক বাস কেবল একটি পরিবহন সেবা নয়, এটি নারীর নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক। এই উদ্যোগ সফল হলে নারীরা যেমন নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, তেমনি সমাজে একটি ইতিবাচক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটবে।